আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ALFADA TIMES
তথ্যসূত্র: BBC News
রাশিয়ান স্যাটেলাইটগুলো নিয়মিতভাবে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্যাটেলাইটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ স্পেস কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল পল টেডম্যান।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মস্কো থেকে পরিচালিত ভূমি-ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই যুক্তরাজ্যের সামরিক স্যাটেলাইটে সংকেত বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
গত বছর স্পেসএক্স রকেটের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ‘টাইক’ (Tyche) নামের একটি সামরিক ইমেজিং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে। এরপর থেকেই রুশ স্যাটেলাইটগুলো ব্রিটিশ স্যাটেলাইটগুলোর খুব কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে নজরদারি করছে বলে দাবি করেন জেনারেল টেডম্যান।
তিনি বলেন, “তারা (রুশ স্যাটেলাইটগুলো) আমাদের স্যাটেলাইটের খুব কাছ দিয়ে উড়ে, এবং নিজেদের যন্ত্রপাতির মাধ্যমে আমাদের যোগাযোগ ও নজরদারি কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে।”
ব্রিটিশ সেনাবাহিনী জানায়, তাদের স্যাটেলাইটগুলোতে সংকেত-প্রতিরোধী (anti-jamming) প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে। তবুও রাশিয়ার বাধা “নিয়মিত ও উদ্দেশ্যমূলক” বলে উল্লেখ করেন টেডম্যান।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের প্রায় ছয়টি সামরিক স্যাটেলাইট কক্ষপথে সক্রিয়, যা মূলত যোগাযোগ ও পর্যবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হয়। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের প্রত্যেকেরই শতাধিক সামরিক স্যাটেলাইট রয়েছে। গত এক দশকে রুশ-চীনা স্যাটেলাইটের সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাশিয়া ও চীন উভয়ই অ্যান্টি-স্যাটেলাইট অস্ত্র পরীক্ষা করেছে বলে জানান টেডম্যান। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সতর্ক করেছে—রাশিয়া মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপনের সক্ষমতা অর্জনের পথে রয়েছে।
টেডম্যান বলেন, “চীনের প্রযুক্তি উন্নত হলেও রাশিয়ার ঝুঁকি এখন আরও তাৎক্ষণিক। রাশিয়ানরা তাদের প্রতিরোধমূলক মহাকাশ অস্ত্র ব্যবহারে অনেক বেশি আগ্রহী।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে মহাকাশে প্রায় ৪৫ হাজারেরও বেশি বস্তু কক্ষপথে ঘুরছে, যার মধ্যে প্রায় ৯ হাজার স্যাটেলাইট। চলতি বছর আরও ৩০০টি রকেট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা মহাকাশে ভিড় আরও বাড়াবে।
উত্তর ইয়র্কশায়ারের আরএএফ ফ্লাইংডেলস ঘাঁটিতে সফরের সময় তিনি বলেন, “এই ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা উত্তর মেরু থেকে উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি করতে সক্ষম। ক্ষুদ্র টিনের কৌটার আকারের বস্তুও এটি ৩,০০০ মাইল দূর থেকে শনাক্ত করতে পারে।”
তবে যুক্তরাজ্যের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো সীমিত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
