ইরান তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে একটি কার্গো বিমান তৈরি করে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই বিমানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিমোর্গ’, যা ফার্সি পুরাণের এক কিংবদন্তি পাখির নাম থেকে নেওয়া। শাহিন শহরের বিমানঘাঁটিতে সফল পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
বিমানটি ইরানের নিজস্ব গবেষণা, নকশা ও উৎপাদন সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিমান ও যন্ত্রাংশ আমদানি করতে না পারায় দেশটি বিকল্প হিসেবে স্থানীয় প্রযুক্তিতে এই বিমান নির্মাণে মনোযোগ দেয়।
‘সিমোর্গ’ কার্গো বিমানটি মাঝারি দূরত্বের পরিবহন সক্ষমতার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে রয়েছে দুটি শক্তিশালী ইঞ্জিন, যার সম্মিলিত ক্ষমতা প্রায় ২,৫০০ হর্সপাওয়ার। বিমানটি সর্বোচ্চ ৬ মেট্রিক টন পর্যন্ত মালামাল বহন করতে পারবে এবং একটানা প্রায় ৩,৯০০ কিলোমিটার উড়তে সক্ষম। সর্বাধিক উড্ডয়ন ওজন প্রায় ২১.৫ মেট্রিক টন বলে জানিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থা।
ইরানি প্রকৌশলীরা জানান, বিমানটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন পরিস্থিতিতে অন্তত ১০০ ঘণ্টা পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করতে হবে। সফলভাবে এই ধাপ অতিক্রম করতে পারলে ‘সিমোর্গ’ কার্গো ও সামরিক পরিবহন—দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহারের উপযোগী হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই সাফল্য শুধু একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়; বরং এটি দেশটির আত্মনির্ভরতা ও শিল্পোন্নয়নের প্রতীক। দেশীয়ভাবে বিমান তৈরি করতে পারলে তা লজিস্টিক, প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
